স্থানীয় উন্নত লটকন (Burmese Grape) কলম চারা

0


৳ 100.00

বিক্রেতার ফোন নম্বর (সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা):
01751924144
Free offer: এখানে আপনার কৃষি পণ্য বিক্রি করুণ
Published on: July 11, 2020
Item will be shipped in 3-5 business days
  Ask a Question   Chat Now

লটকন এক প্রকার দেশীয় ও অপ্রচলিত ফল, যা অত্যন্ত পুষ্টি ও ঔষধিগুণে ভরপুর। যার ইংরেজি নাম হলো Burmese grape ও বৈজ্ঞানিক নাম- Baccaurea sapidaএটি মাঝারি আকারের চির সবুজ বৃক্ষ। ফল গোলাকার ক্যাপসুল, পাকলে এর ফল হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ফলের খোসা ছাড়ালে ৩/৪টি রসালো অম্লমধুর স্বাদের বীজ পাওয়া যায়। ফল হিসেবেই ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু স্থানে চাষ হচ্ছে যেমন- নরসিংদী, সিলেট, গাজীপুর, নেত্রকোনা ও   ময়মনসিংহ জেলা উল্লেখযোগ্য এলাকা। তার মধ্যে নরসিংদী জেলার সদর, শিবপুর, রায়পুরা ও বেলাব উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লটকন চাষ হচ্ছে। নরসিংদীর লটকনের স¦াদ অত্যন্ত বেশি এবং সারাদেশ ব্যাপী এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।


লটকনের পুষ্টিগুণ
লটকন অত্যন্ত পুষ্টিকর ও সুস্বাদু একটি ফল। পরিপক্ব লটকনের প্রতি ১০০ গ্রাম শাঁসে আছে ১.৪২ গ্রাম আমিষ, ০.৪৫ গ্রাম চর্বি, ০.৯ গ্রাম মোট খনিজ পদার্থ, ০.৩ গ্রাম লৌহ এবং ৯১ কিলো ক্যালরি খাদ্যশক্তি। (লৌহ যা শরীরের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করে থাকে) এছাড়াও লটকনে রয়েছে ০.০৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি১ এবং ০.১৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি২। সাধারণত লটকনকে ভিটামিন বি২ সমৃদ্ধ ফল বলা হয়ে থাকে। ভিটামিন বি২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন, যা শরীরের জন্য খুব প্রয়োজনীয় উপাদান। এই ফলে চর্বি অত্যন্ত কম থাকায় ও কোন শর্করা নেই বিধায় সকল বয়সের মানুষ নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

 

লটকনের ঔষধিগুণ
লটকনের যেমন পুষ্টিগুণ রয়েছে তেমনি তার ঔষধিগুণও রয়েছে। এই ফল খেলে বমি বমি ভাব দূর হয় ও তৃষ্ণা নিবারণ হয়। এছাড়াও লটকনের পাতা শুকনো করে গুঁড়া করে খেলে ডায়রিয়া ও মানসিক চাপ কমে। লটকন অম্ল মধুর ফল তাই এই ফল খেলে আমাদের মুখের স্বাদ বৃদ্ধি পায় এবং খাবারের রুচি বাড়ে। এছাড়াও তাতে পর্যাপ্ত আয়রন বা লৌহ উপাদান থাকায় দেহের রক্তশূন্যতা দূর হয়।

 

লটকনের উন্নত জাত, মাটি ও রোপণের মৌসুম
ভালো ও উন্নত জাতের চারা বা কলম লাগাতে হবে। বারি লটকন-১ সবচেয়ে ভালো জাতের লটকন এবং এ জাতটি সারা দেশে চাষোপযোগী। এছাড়াও আছে বাউ লটকন-১। লটকনের চারা সংগ্রহ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে রোপণ করা উত্তম তবে বর্ষার শেষের দিকে অর্থাৎ ভাদ্র-আশ্বিন মাসেও চারা লাগানো যাবে। লটকন স্যাঁতসেঁতে ও আংশিক ছায়াযুক্ত পরিবেশে যেমন আম বা কাঁঠালের মতো বড় গাছের নিচেও ভালো জন্মে কিন্তু জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। ৮-১০ দিন পানি জমে থাকলে গাছ মরে যেতে পারে। এজন্য পানি দাঁড়ায় না অথচ বৃষ্টিপাত বেশি হয় এমন এলাকায় বেলে-দো-আঁশ মাটি লটকন চাষের জন্য বেশি উপযোগী।


বাগান ব্যবস্থাপনা
*প্রথমেই লটকনের বাগানে কয়েকটি পুরুষ ও অধিকাংশ স্ত্রী কলম সংগ্রহ করে লাগানো উচিত। তাতে পরাগায়নের সুবিধা হবে ও অধিক লাভবান হওয়া যাবে। লটকনের কেবলমাত্র ফুল আসার পরই স্ত্রী ও পুরুষ গাছ চেনা যায়। তখনই বাগানে শতকরা ২০ ভাগ পুরুষ গাছ রেখে বাকি পুরুষ গাছগুলো কেটে ফেলতে হবে। সেখানে আবার নতুন চারা লাগাতে হবে। তবে এই সমস্যা দূর করতে হলে প্রথমেই বাগানে লটকনের স্ত্রী কলম লাগানো উচিত।


*বর্ষার প্রারম্ভে চারা রোপণের ১০-১৫ দিন পূর্বে ৭ী৭ মিটার দূরত্বে ১xx১ মিটার আকারের গর্ত করতে হবে। গর্ত প্রতি গোবর ১৫-২০ কেজি, টিএসপি ৫০০ গ্রাম এবং এমওপি ২৫০ গ্রাম সার মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করে রেখে দিতে হবে। মাটি শুকনো হলে গর্তে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হবে। গর্ত করার ১০-১৫ দিন পর ভালভাবে আবার কুপিয়ে চারা বা কলম লাগাতে হবে।
*চারা লাগানোর পরপরই পানি ও খুঁটি দিতে হবে। প্রয়োজনে বেড়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
*চারা রোপণের প্রথম দিকে ঘন ঘন সেচ দেয়া দরকার।   

ফল ধরার পর দু-একটা সেচ দিতে পারলে ফল বড় হয় এবং ফলন বেড়ে যায়।
*একটি থোকায় বেশি ফল থাকলে পাতলা করে দিতে হবে। ফল আহরণের পর গাছের মরা, রোগাক্রান্ত ও কীটাক্রান্ত ডাল ছাঁটাই করে দিতে হবে।
*প্রতি বছর পূর্ণ বয়স্ক গাছে নিম্নরূপ হারে সার প্রয়োগ করতে হবে:
*উপর্যুক্ত সার গাছের গোড়া থেকে ১ মিটার দূরে যতটুকু জায়গায় দুপুরবেলা ছায়া পড়ে ততটুকু জায়গা কুপিয়ে মাটি আলগা করে সারগুলো ছিটিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে।

 

রোগবালাই দমন ব্যবস্থা :
অ্যানথ্রাকনোজ : কলেটোট্রিকাম সিডি নামক ছত্রাক লটকনের অ্যানথ্রাকনোজ রোগের কারণ। গাছের পাতা, কা-, শাখা-প্রশাখা ও ফল এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। ফলের গায়ে ছোট ছোট কাল দাগই এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তাছাড়া ফল শক্ত, ছোট ও বিকৃত আকারের হতে পারে। ফল পাকা শুরু হলে দাগ দ্রুত বিস্তৃত হতে থাকে এবং ফল ফেটে বা পচে যেতে পারে।


প্রতিকার : গাছের নিচে ঝরে পড়া পাতা ও ফল সংগ্রহ করে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। গাছে ফল ধরার পর টপসিন-এম অথবা নোইন প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম অথবা টিল্ট-২৫০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ০.৫ মিলি হারে মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর অন্তর   ২-৩ বার ভালোভাবে স্প্রে করে এ রোগ দমন করা যায়।
ঢলে পড়া : ফিউজেরিয়াম নামক ছত্রাকের আক্রমণে এ রোগ হয়। প্রথমে পাতা হলুদ হয়ে আসে এবং পরে শুকিয়ে যায়। এভাবে পাতার পর প্রশাখা-শাখা এবং ধীরে ধীরে সমস্ত গাছই ৮-১০ দিনের মধ্যে নেতিয়ে পড়ে ও মারা যায়।


প্রতিকার : এ রোগের কোন প্রতিকার নেই। তবে নিম্নলিখিত ব্যবস্থাগুলো নেয়া হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যায়। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। রোগের প্রাথমিক অবস্থায় বর্দোমিক্সার অথবা কুপ্রাভিট/কপার অক্সিক্লোরাইড প্রতি লিটার পানিতে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে। বাগানের মাটির অম্লত্ব কমানোর জন্য জমিতে ডুলোচুন প্রয়োগ করতে হবে (২৫০-৫০০ গ্রাম/গাছ)। রোগ প্রতিরোধী আদিজোড়ের উপর কলম করতে হবে।


ফল ঝরে যাওয়া : পরাগায়নের অভাব, অধিক খরা বা শীত মৌসুমে এবং ফুল ধরার সময় মাটিতে সেচ না দেয়া, মাটিতে বোরনের অভাব, রোগ বা পোকার আক্রমণ ইত্যাদি অনেক কারণে ফল ঝরে যেতে পারে।


প্রতিকার : শীত বা খরা মৌসুমে নিয়মিত সেচ প্রদান করতে হবে। গাছে ফুল ফোটার পর বৃষ্টি না হলে অবশ্যই সেচ প্রদান করতে হবে। নিয়মিত সার ব্যবহার করতে হবে। বাগানে বা আশপাশে পুরুষ গাছ লাগাতে হবে।


পোকামাকড় দমন ব্যবস্থা :
ফল ছিদ্রকারী পোকা : ফল ছোট অবস্থায় যখন খোসা নরম থাকে তখন এই পোকা ফলের খোসা ছিদ্র করে ডিম পাড়ে। পরবর্তী সময়ে ডিম থেকে কীড়া উৎপন্ন হয় এবং ফলের নরম শাঁস খেয়ে থাকে।


প্রতিকার : আক্রান্ত ফল পোকাসহ মাটির গভীরে পুঁতে ফেলতে হবে। প্রতি লিটার পানিতে ২ মি.লি. হারে পারফেকথিয়ন বা লেবাসিড ৫০ ইসি মিশিয়ে ১৫ দিন অন্তর ২-৩ বার ফল ছোট অবস্থায় গাছে স্প্রে করতে হবে।


মিলিবাগ ও সাদা মাছি পোকা : সাধারণত শীতকালে এদের আক্রমণে পাতায় সাদা সাদা তুলার মতো দাগ দেখা যায়। এরা পাতার রস শুষে গাছকে দুর্বল করে। রস শোষণের সময় পাতায় বিষ্ঠা ত্যাগ করে এবং সেই বিষ্ঠার উপর শুটিমোল্ড নামক ছত্রাক জন্মে পাতার খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস করে।
প্রতিকার : আক্রান্ত পাতা ও ডগা পোকাসহ কেটে ধ্বংস করতে হবে। রগর/রক্সিয়ন ৪০ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ২ মিলি. হারে মিশিয়ে আক্রান্ত পাতা ও গাছের ডালপালা প্রতি ১০ দিন অন্তর ২-৩ বার স্প্রে করে ভিজিয়ে দিতে হবে।


চেফার বিটল : পূর্ণাঙ্গ পাতা খেয়ে ছিদ্র করে ফেলে। আস্তে আস্তে সমস্তপাতা খেয়ে জালের মতো করে ফেলে।
 

প্রতিকার : সুমি-আলফা/ডেবিকুইন ৪০ ইসি প্রতিলিটার পানিতে ১.৫ মি.লি. হারে মিশিয়ে স্প্রে করে এ পোকা দমন করা যায়।
 

ফল সংগ্রহের সময় ও ফলন : শীতের শেষে অর্থাৎ ফাল্গুন মাসে গাছে ফুল আসে। আষাঢ়- শ্রাবণ মাসে (জুলাই-আগস্ট) মাসে ফল পাকে। ফলের রং হালকা হলুদ হতে ধূসর বর্ণ ধারণ করলে ফল সংগ্রহ করতে হবে। কলমের গাছে সাধারণত ৪ বছর বয়সে ফল আসা শুরু হয় তবে চারার ক্ষেত্রে ফল আসতে ৮-৯ বছর সময় লাগে। অবস্থাভেদে গাছের বয়সের উপর ভিত্তি করে গাছপ্রতি ৪ কেজি হতে ১২০/১৩০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে। লটকন চাষের ক্ষেত্রে যেকোন পরামর্শের জন্য নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিস অথবা কৃষি কল সেন্টার ১৬১২৩-এ যোগাযোগ করুন।

No more offers for this product!

General Inquiries

There are no inquiries yet.

0
Pear BARI1
0
৳ 700.00 ৳ 550.00
21%
0
Mulberry plant
0
৳ 120.00 ৳ 100.00
17%
0
এয়ার স্টোন
0
৳ 85.00
0
মোলাসেস ( চিটা গুড় )
0
৳ 25.00
0
Rockmelon / Cantaloupe Melon Seeds
0
৳ 50.00
0
হাইব্রীড পেপে সুইটি
0
৳ 100.00
Change
Logo
Register New Account
Reset Password
Chat Now
Chat Now
Questions, doubts, issues? We're here to help you!
Connecting...
None of our operators are available at the moment. Please, try again later.
Our operators are busy. Please try again later
:
:
:
Have you got question? Write to us!
:
:
This chat session has ended
Was this conversation useful? Vote this chat session.
Good Bad