স্ট্রবেরি (পলি) (Strawberry) ফ্যাষ্টিবল চারা

0


50.00৳ 

বিক্রেতার ফোন নম্বর (সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা):
01842635861
Free offer: এখানে আপনার কৃষি পণ্য বিক্রি করুণ
Published on: July 11, 2020
Item will be shipped in 3-5 business days
  Ask a Question   Chat Now

স্ট্রবেরি Fragaria ananasa) Rosaceae পরিবারভুক্ত একটি গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। আকর্ষণীয় বর্ণ, গন্ধ, স্বাদ ও উচ্চ পুষ্টিমানের জন্য স্ট্রবেরি অত্যন্ত সমাদৃত। স্ট্রবেরি একটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল হলেও এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে অন্যান্য ভিটামিন, খনিজ পদার্থ ও এন্টি-অক্সিডেন্ট বিদ্যমান। ফল হিসেবে সরাসরি খাওয়া ছাড়াও বিভিন্ন খাদ্যের সৌন্দর্য ও সুগন্ধ বৃদ্ধিতেও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। স্ট্রবেরি মৃদ শীতপ্রধান দেশের ফল হলেও উষ্ণম-লীয় অঞ্চলে চাষোপযোগী স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন করায় দক্ষিণ, পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিকভাবে এর চাষ হচ্ছে। শীত মৌসুমে আমাদের দেশে তেমন কোনো ফল উৎপন্ন না হলেও সাফল্যজনকভাবে স্ট্রবেরি চাষ সম্ভব অপরদিকে বাজারে এটি বেশ উচ্চমূল্যে বিক্রয় হয় বিধায় এর চাষ খুবই লাভজনক। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রায় ২৫টি জেলায় সাফল্যের সাথে স্ট্রবেরি চাষ হচ্ছে। বিএআরআই দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রবেরি চাষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করে আসছে এবং অদ্যাবধি বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের সর্বত্র চাষ উপযোগী স্ট্রবেরির তিনটি উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করেছে।
পুষ্টিমান ও ব্যবহার : স্ট্রবেরি অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি ফল। এর প্রতি ১০০ গ্রাম শাঁসে বিদ্যমান পুষ্টি উপাদান হলো-
পানি ৯১.৬৭ মিলিলিটার, খাদ্যশক্তি ৩০ কিলোক্যালরি, আমিষ ০.৬১, চর্বি ০.৩৭, শর্করা ৭.০১, অশোধিত আঁশ ২.২৯ গ্রাম করে, ক্যালসিয়াম ১৩.৮৯, লৌহ ০.৩৮, ম্যাগনেসিয়াম ৯.৭২, ফসফরাস ১৮.৭৫, পটাসিয়াম ১৬৭.০০, ভিটামিন সি ৫৭.০০, নিয়াসিন ০.২৩ মিলিগ্রাম করে, ভিটামিন এ ২৭.০০ আন্তর্জাতিক একক। স্ট্রবেরি দ্বারা জ্যাম, জেলি, স্কোয়াস, জুস, আইসক্রিম, ক্যান্ডি প্রভৃতি তৈরি করাযায়। মিশ্র ফলের ককটেলে স্ট্রবেরি ব্যবহার করা যায়। স্ট্রবেরি পিউরি রেফ্রিজারেটরে দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।
মাটি ও আবহাওয়া : স্ট্রবেরি মূলত মৃদু শীত প্রধান অঞ্চলের ফসল। কিন্তু কিছু কিছু জাত তুলনামূলক তাপ সহিষ্ণু এদের গ্রীষ্মায়িত জাত বলা যায়। এসব জাতের জন্য দিন ও রাতে যথাক্রমে ২০-২৬ ডিগ্রি ও ১২-১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা প্রয়োজন। ফুল ও ফল আসার সময় শুষ্ক আবহাওয়া আবশ্যক। স্ট্রবেরির জাতগুলো বাংলাদেশের আবহাওয়ায় রবি মৌসুম চাষের উপযোগী। বৃষ্টির পানি জমে না এ ধরনের উর্বর দো-আঁশ থেকে বেলে-দোআঁশ মাটি স্ট্রবেরি চাষের জন্য উত্তম।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ : স্ট্রবেরি উৎপাদনের জন্য উত্তমরূপে কয়েকবার চাষ ও মই দিয়ে এবং বিশেষ করে বহুবর্ষজীবী আগাছাসহ অন্যান্য আগাছা অপসারণ করে জমি তৈরি করতে হবে। জমিতে চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে ৩০ গ্রাম-শতাংশ হারে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিলে মাটিবাহিত রোগ জীবাণু নষ্ট হয়। স্ট্রবেরি বেডে অথমা সমতল পদ্ধতিতে চাষ করা যায়। তবে ফাটিগেশন পদ্ধতিতে চাষ করার জন্য বেড পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। এজন্য ১ মিটার প্রশস্ত এবং ১০-১৫ সেন্টিমিটার উঁচু বেড তৈরি করতে হবে। দুটি বেডের মাঝে ৩০-৫০ সেন্টিমিটার নালা রাখতে হবে। প্রতি বেডে ৩০-৫০ সেন্টিমিটার দূরত্বে দুই সারিতে ২০-৪০ সেন্টিমিটার দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হবে। আগাম রোপণের জন্য পাতলা এবং নাবি রোপণের জন্য ঘন করে চারা লাগাতে হবে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় আশ্বিন মাস (মধ্য সেপ্টেম্বর থেকে মধ্য অক্টোবর) স্ট্রবেরির চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তবে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত চারা রোপণ করা চলে।
সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি : গুণগত মানসম্পন্ন উচ্চফলন পেতে হলে স্ট্রবেরির জমিতে নিয়মিত পরিমিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। মাঝারি উর্বরতার জমির জন্য হেক্টরপ্রতি ৩০ টন পচা গোবর, ২৫০ কেজি ইউরিয়া, ১৭৫ কেজি টিএসপি, ২০০ কেজি এমওপি, ১১৫ কেজি জিপসাম, ১২ কেজি বরিক এসিড ও ৮ কেজি জিংক সালফেট সার প্রয়োগ করা যেতে পারে। শেষ চাষের সময় সম্পূর্ণ গোবর, টিএসপি, জিপসাম, বরিক এসিড ও জিংক সালফেট সার জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। ফার্টিগেশন পদ্ধতির জন্য ২০০ কেজি ইউরিয়া ও ১৫০ কেজি এমওপি সার চারা রোপণের ১৫ দিন পর থেকে ১৫-২০ দিন পরপর ৫-৮ কিস্তিতে সেচের পানির সাথে মিশিয়ে ড্রিপ সেচের মাধ্যমে প্রয়োগ করতে হবে।
পানি সেচ ও নিকাশ : জমিতে রসের অভাব দেখা দিলে প্রয়োজনমতো পানি সেচ দিতে হবে। স্ট্রবেরি জলাবদ্ধতা মোটেই সহ্য করতে পারে না। তাই বৃষ্টি বা সেচের অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে সেচের পানি নলের মাধ্যমে ফোঁটায় ফোঁটায় সরাসরি গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করা হয়। ফলে পানির পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং সেচজনিত জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা থাকে না।
মাল্চ প্রয়োগ ও পরিচর্যা : স্ট্রবেরি উৎপাদনে মাল্চ অপরিহার্য কারণ সরাসরি মাটির সংস্পর্শে এলে স্ট্রবেরির ফল পচে নষ্ট হয়ে যায়। স্ট্রবেরি চাষের সূচনালগ্নে এতে মাল্চ হিসেবে খর ব্যবহার করা হতো বিধায় এর নাম হয়েছে স্ট্রবেরি। চারা রোপণের ২০-২৫ দিন পর স্ট্রবেরির বেড খড় বা কাল পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। খড়ে যাতে উঁইপোকার আক্রমণ না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রতি লিটার পানির সাথে ৩ মিলিলিটার ডার্সবান ২০ ইসি ও ২ গ্রাম ব্যাভিস্টিন ডিএফ মিশিয়ে ওই দ্রবণে খড় সুধন করে নিলে তাতে  উঁইপোকার আক্রমণ হয় না এবং দীর্ঘদিন তা অবিকৃত থাকে। স্ট্রবেরিরর জমি সবসময় আগাছামুক্ত রাখতে হবে। গাছের গোড়া থেকে নিয়মিতভাবে রানার বের হয়। ওই রানারগুলো ১০-১৫ দিন পর পর কেটে ফেলতে হবে। রানার কেটে না ফেললে গাছের ফুল ও ফল উৎপাদন হ্রাস পায়।
ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি উৎপাদন : ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে পানির সাথে রাসায়নিক সার মিশিয়ে ফসলে প্রয়োগ করা হয়। যেসব সার পানিতে দ্রবণীয় তা ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা যায়। ফলে ফসলের প্রয়োজনীয় সার ও পানি একত্রে গাছের গোড়ায় সরবরাহ করা যায়। ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদনে সার ও সেচের পরিমিত ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে ফলন ২৫-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে স্ট্রবেরির ফলন ২০ থেকে ৫০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে ৪৫-৫৫০ শতাংশ সার এবং ৪৫-৫০ শতাংশ সার কম লাগে। সার এবং পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ফার্টিগেশন পদ্ধতির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ফসলের গোড়ায় প্রয়োগের ফলে প্রয়োগকৃত সারের প্রায় সবটুকু উদ্ভিদ গ্রহণ করে। ফলে অব্যবহৃত সার চুঁইয়ে ভূ-উপরিস্থ এবং ভূ-গর্ভস্থ পানি দূষিত করে না। এ পদ্ধতিতে ফসল উৎপাদন করলে মাটি ও পানি বাহিত রোগের বিস্তার কম হয়। উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদনে ফার্টিগেশন-ড্রিপ সেচ খুবই উপযোগী পদ্ধতি। সারাবিশ্বে উৎপাদিত স্ট্রবেরির প্রায় ৮৫ ভাগ প্লাস্টিক-কালচার পদ্ধতিতে আবাদ করা হয়। প্লাস্টিক কালচার পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি গাছের প্রয়োজনীয় সার ও পানি সরবরাহ করা হয় ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে। ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে ফসল চাষ করলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় এবং অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। ফার্টিগেশন বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন সেচ প্রযুক্তি যার চাহিদা ক্রমান¦য়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ পদ্ধতির খরচ বেশি হলেও দীর্ঘদিন ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ সম্বনয় করা সম্ভব। প্রতি ৩ শতক জমির ফসলের জন্য এ পদ্ধতিতে সেচ ও সার বাবদ বছরে ৩৮০-৪২০ টাকা খরচ হয়।
ফার্টিগেশন পদ্ধতির সুবিধাগুলো
ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে হেক্টরে ১৫-২০ টন স্ট্রবেরি উৎপাদন করা সম্ভব।
এ পদ্ধতিতে প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে শতকরা ৫০-৫৫ ভাগ ইউরিয়া এবং ২৫ ভাগ পটাশ কম লাগে।
প্রচলিত ফারো এবং প্লাবন সেচ পদ্ধতিরে চেয়ে শতকরা ৪৫-৪৮ ভাগ সেচের পানি কম লাগে।
ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে সেচজনিত জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা না থাকায় এবং এক গাছ থেকে পানি চুয়িয়ে অন্য গাছে না যাওয়ায় প্লাবন বা ফারো সেচ পদ্ধতি অপেক্ষা এ পদ্ধতিতে রোগ বালাই এর প্রাদুর্ভাব কম হয়।
ফার্টিগেশন পদ্ধতিতে স্ট্রবেরি চাষের আয়-ব্যয়ের অনুপাত ৮ঃ১ এবং প্রতি হেক্টর জমিতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে স্ট্রবেরি চাষ করে নিট মুনাফা ১৮-২৫ লাখ টাকা পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে এ উন্নত পদ্ধতির যাবতীয় উপকরণ স্থানীয়ভাবে তৈরি করা হয়।
লবণাক্ত ও খরাপ্রবণ এলাকা এবং পাহাড়ি অঞ্চলে ফার্টিগেশন পদ্ধতি খুবই উপযোগী ।
প্রতি ৫ শতক জমির ফসলের জন্য এ পদ্ধতিতে সেচের খরচ হয় মৌসুমে ১২০০-১৫০০ টাকা।
রোগবালাই ও অন্যান্য শত্রু এবং প্রতিকার
পাতায় দাগ পড়া রোগ : কোনো কোনো সময় পাতায় বাদামি রংয়ের দাগ পরিলক্ষিত হয়। এ রোগের আক্রমণ হলে ফলন এবং ফলের গুণগত মান হ্রাস পায়। সিকিউর নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার ¯েপ্র করে সুফল পাওয়া যায়।
ফল পচা রোগ : এ রোগের আক্রমণে ফলের গায়ে জলে ভেজা বাদামি বা কালো দাগের সৃষ্টি হয়। দাগ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ফল খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে যায়। ফল পরিপক্ব হওয়ার পূর্বে নোইন ৫০ ডব্লিওপি অথবা ব্যাভিস্টিন ডিএফ নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার স্প্রে করতে হবে।
ক্রাউন রট : এ রোগে আক্রান্ত গাছের কচি পাতা বিবর্ণ হয়ে ঢলে পড়ে য দ্রুত সমগ্র গাছে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে গাছ বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং মারা যায়। 
Phytophthora নামক ছত্রাকের আক্রমণে ক্রাউন রট রোগ হয়। আক্রান্ত ক্রাউন মাঝ বরাবর লম্বালম্বি ব্যবচ্ছেদ করলে কাণ্ডের মাঝ বরাবর বাদামি বা হালকা গোলাপি বর্ণ ধারণ করে। সাধারণত জলাবদ্ধতা সম্পন্ন জমিতে ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় এ রোগের আক্রমণ বেশি হয়। জমি শুষ্ক রাখতে হবে। পলিথিন মাল্চ ব্যবহার করলে তা তুলে ফেলতে হবে। ডাইথেম এম ৪৫ অথবা রিডোমিল গোল্ড ৭৫ ডাব্লিও পি অথবা সিকিউর নামক ছত্রাকনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ২ গ্রাম হারে মিশিয়ে ১০-১৫ দিন পরপর ২-৩ বার গাছের গোড়া ও মাটি ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। তবে রিডোমিল গোল্ড ৭৫ ডব্লিওপি ও সিকিউর  একত্রে প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রতি হেক্টর জমির জন্য ৫ কেজি ট্রাইকোডামা ভিরিডি ২৫ কেজি জৈবসারের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করে ক্রাউন রট, ভারটিসিলাম উইল্টসহ অন্যান্য মাটিবাহিত ছত্রাক দমন করা যায়।
ভারটিসিলাম উইল্ট : এ রোগে আক্রান্ত গাছ হঠাৎ করে দুর্বল ও বিবর্ণ হয়ে পড়ে। আক্রমণ বেশি হলে গাছ বাদামি বর্ণ ধারণ করে এবং মারা যায়। আক্রান্ত ক্রাউন মাঝ বরাবর লম্বালম্বি ব্যবচ্ছেদ করলে কাণ্ডের মাঝ বরাবর বিবর্ণ-ফ্যাকাশে হলুদ বর্ণ ধারণ করে। সাধারণত জলাবদ্ধতা সম্পন্ন জমিতে এ রোগের আক্রমণ বেশি হয়। জমি শুষ্ক রাখতে হবে। পলিথিন মাল্চ ব্যবহার করলে তা তুলে ফেলতে হবে। জমিতে চারা রোপণের ১৫-২০ দিন পূর্বে ৩০ গ্রাম-শতাংশ হারে স্ট্যাবল ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিলে রোগ জীবাণু নষ্ট হয়। কপার জাতীয় ছত্রাকনাশক যেমন বর্দ্দোমিক্সার (১ঃ১ঃ১০) ৮-১০ দিন পর পর ২-৩ বার গাছের গোড়া ও মাটি ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। প্রতি হেক্টর জমির জন্য ৫ কেজি ট্রাইকোডামা ভিরিডি ২৫ কেজি জৈবসারের সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গাছের গোড়ায় প্রয়োগ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
পাখি : পাখি বিশেষ করে বুলবুলি, দোয়েল, শ্যামা প্রভৃতি পাখি স্ট্রবেরির সবচেয়ে বড় শত্রু। ফল আসার পর সম্পূর্ণ পরিপক্ব হওয়ার পূর্বেই পাখির উপদ্রব শুরু হয়। পাখি পাকা ও আধাপাকা ফল নষ্ট কওে এবং খাওযার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
প্রতিকার : আলোক প্রতিসরণশীল প্লাস্টিক বা সিল্ভার স্ট্রিপ ব্যবহারের মাধ্যমে বা বাগানে শব্দ তৈরি করে পাখি তাড়ানো যায়। ফল আসার পর সম্পূর্ণ বেড জাল দ্বারা ঢেকে দিতে হবে যাতে পাখি ফল খেতে না পারে।
ভাইরাস : ভাইরাস রোগের আক্রমণে স্ট্রবেরির ফলন ক্ষমতা এবং গুণগতমান হ্রাস পেতে থাকে। সাদা মাছি পোকা এ ভাইরাস রোগ ছড়ায়। এডমায়ার ২০০ এসএল নামক কীটনাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ০.২৫ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে ¯েপ্র করে  সাদামাছি পোকা দমন করলে ভাইরাস রোগের বিস্তার রোধ করা যায়।
মাইট : মাইটের আক্রমণে স্ট্রবেরির ফলন ক্ষমতা ও গুণগতমান মারাত্মকভাবে বিঘিœত হয়। এদের আক্রমণে পাতা তামাটে বর্ণ ধারণ করে ও পুরু হয়ে যায় এবং আস্তে আস্তে কুচকে যায়। গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ভারটিমেক ০১৮ ইসি নামক মাকড়নাশক প্রতি লিটার পানির সাথে ১ মিলিলিটার হারে মিশিয়ে ১০ দিন অন্তর ২-৩ বার ¯েপ্র করতে হবে।
ফল সংগ্রহ ও সংরক্ষণ
ভাদ্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে রোপণকৃত বারি স্ট্রবেরি-১ এর ফল সংগ্রহ পৌষ মাসে শুরু হয়ে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে। ফল পেকে লাল বর্ণ ধারণ করলে ফল সংগ্রহ করতে হয়। স্ট্রবেরির সংরক্ষণ কাল খুবই কম বিধায় ফল সংগ্রহের পর পরই তা টিস্যু পেপার দিয়ে মুড়িয়ে প্লাস্টিকের ঝুড়ি বা ডিমের ট্রেতে এমনভাবে  সংরক্ষণ করতে হবে যাতে ফল গাদাগাদি অবস্থায় না থাকে। ফল সংগ্রহের পর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাজারজাত করতে হবে। স্ট্রবেরির সংরক্ষণ গুণ ও পরিবহন সহিষ্ণুতা কম হওয়ায় বড় বড় শহরের কাছাকাছি এর চাষ করা উত্তম।
মাতৃ গাছ রক্ষণাবেক্ষণ
স্ট্রবেরি গাছ প্রখর সৌর-তাপ এবং ভারি বর্ষণ সহ্য করতে পারে না। এজন্য মার্চ-এপ্রিল মাসে হালকা ছায়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা ফল আহরণের পর মাতৃগাছ তুলে টবে রোপণ করে ছায়ায় রাখতে হবে। ফল আহরণ শেষ হওয়ার পর সুস্থ-সবল গাছ তুলে পলিথিন ছাউনির নিচে রোপণ করলে মাতৃ গাছকে খরতাপ ও ভারি বর্ষণের ক্ষতি থেকে রক্ষা করা যাবে। মাতৃ গাছ থেকে উৎপাদিত রানার পরবর্তী সময়ে চারা হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
ফলন : হেক্টরপ্রতি ৩৫-৪০ হাজার চারা রোপণ করা যায়। প্রতি গাছে গড়ে ২৫০-৩০০ গ্রাম হিসাবে হেক্টর প্রতি ১০-১২ টন স্ট্রবেরি পাওয়া যায়। ফাটিগেশন পদ্ধতিতে প্রায় ১৫-২০ টন স্ট্রবেরি উৎপাদন সম্ভব।

No more offers for this product!

General Inquiries

There are no inquiries yet.

[mwb_wrp_category_products count=8]
Change
KrishiMela
Logo
Register New Account
Reset Password
Chat Now
Chat Now
Questions, doubts, issues? We're here to help you!
Connecting...
None of our operators are available at the moment. Please, try again later.
Our operators are busy. Please try again later
:
:
:
Have you got question? Write to us!
:
:
This chat session has ended
Was this conversation useful? Vote this chat session.
Good Bad